রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
'২০২৯ সালের ভোটেই মোদী সরকারের বিদায় নিশ্চিত', ভবিষ্যদ্বাণী ককরোচ প্রধানের জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্তক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার বাংলাদেশের কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে মানুষের লাশ উদ্ধার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিবিএসকে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী সৌদি আরবের রিয়াদে আর্থিক জেলায় হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায় সিলেট
রাজনীতি

শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি ছিল কৃষি বিপ্লবের মূল ভিত্তি : ডেপুটি

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 25 এপ্রিল 2026, 07:21 বিকাল • 132 বার পঠিত
শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি ছিল কৃষি বিপ্লবের মূল ভিত্তি : ডেপুটি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু সাধারণ কোনো ভাবনা থেকে নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি বিপ্লব সূচিত করার লক্ষ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক কর্মকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই নতুন করে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

আজ দুপুরে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের শিবনগর এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের আগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় উপজেলার ভর বিল হতে আনছা বিল পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু খাল খননের জন্য এটি করেননি, এর পেছনে আরো অনেকগুলো কারণ ছিল। এই কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার পর যে কুফল আমরা ভোগ করছি, তা আজ স্পষ্ট। 

তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। আগে হাতের চাপে নলকূপে পানি পাওয়া যেত, এখন ৪০০ ফিট গভীরে যেতে হয়। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়েছে। সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের ৮০ ভাগ কৃষকের উপকারের কথা চিন্তা করেই শহীদ জিয়া এই বিপ্লব শুরু করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত সরকারগুলো এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখেনি, বরং খাল ভরাট ও দখল হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ শুধু শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং তার কর্মকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা। আমি বিশ্বাস করি, দেশজুড়ে এই খাল পুনঃখনন সফল হলে আমরা আবারো সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ফিরে পাব।

শহীদ জিয়ার সময়কার স্বেচ্ছাশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া স্কুল-কলেজের ছাত্র, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষকে এই কাজে সম্পৃক্ত করেছিলেন। বর্তমান ডায়নামিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীও সেই জনঅংশগ্রহণের ধারা অব্যাহত রেখে কৃষি বিপ্লব বাস্তবায়ন করবেন।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্র সম্পর্কে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশে কার্যকর কোনো নির্বাচন হয়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। এই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠনই হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা চাই সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক।

সম্প্রতি পূর্বধলায় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে যার যার রাজনীতি করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করার নির্দেশ দিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ৭৫-এর পটপরিবর্তন ও ৯০-এর আন্দোলনের সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুযোগকে সকল রাজনৈতিক দল কাজে লাগিয়ে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা গারো-হাজং নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট নুরুজ্জামান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।