রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
'২০২৯ সালের ভোটেই মোদী সরকারের বিদায় নিশ্চিত', ভবিষ্যদ্বাণী ককরোচ প্রধানের জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্তক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার বাংলাদেশের কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে মানুষের লাশ উদ্ধার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিবিএসকে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী সৌদি আরবের রিয়াদে আর্থিক জেলায় হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায় সিলেট
প্রযুক্তি

হিমালয়ের আকাশে দেখা মিলল রহস্যময় লাল ‘বজ্রপাতের ঝলকানি’

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 20 মার্চ 2025, 05:23 বিকাল • 356 বার পঠিত
হিমালয়ের আকাশে দেখা মিলল রহস্যময় লাল ‘বজ্রপাতের ঝলকানি’

কখনও কি লাল বজ্রপাতের কথা শুনেছেন? ‘রেড স্প্রাইটস’ নামে পরিচিত এই অবিশ্বাস্য ঝলকানি হচ্ছে বৈদ্যুতিক স্রাব, যা বজ্রপাতের উপরে ঘটে। এগুলো দেখতে আকাশে জ্বলজ্বল করা লাল জেলিফিশের মতো।

এখন, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত অর্থাৎ হিমালয়ের উপরে এসব বিরল আলোর ঝলকানি দেখার বিষয়টি একবার কল্পনা করুন।

২০২২ সালের ১৯ মে মাসে হিমালয়ের উপরে একশটিরও বেশি অবিশ্বাস্য এসব আলোর ঝলকানির বিস্ময়কর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন দুই চীনা জ্যোতির্বিদ অ্যাঞ্জেল আন ও শুচাং ডং।

তাদের পর্যবেক্ষণ স্থানটি ছিল তিব্বত মালভূমির একটি পবিত্র হ্রদ ‘পুমোয়ংকুও’ হ্রদের কাছে। তারা যেসব ছবি ধারণ করেছিলেন তাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা উঠে এসেছে, যা রীতিমতো মুগ্ধ করেছে গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষকে।

লাল স্প্রাইটের পাশাপাশি অন্যান্য বিরল বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনাও রেকর্ড করেছিলেন আলোকচিত্রীরা। যার মধ্যে রয়েছে “ডান্সিং স্প্রাইটস” ও এশিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখতে পাওয়া “ঘোস্ট স্প্রাইটস”-এর ঘটনা, যা রাতেরবেলায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় স্তর আয়নোস্ফিয়ারের গোড়ায় দেখতে পাওয়া সবুজ এক আভা।

এ আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে ও প্রধান গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়ে উঠেছে।

এ দর্শনীয় ঘটনার ব্যাখ্যা মিলেছে চীনের ‘ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যাপক গাওপেং লু ও তার গবেষণা দলের করা গবেষণায়, যেটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাডভান্সেস ইন অ্যাটমোস্ফিয়ারিক সায়েন্সেস’-এ।

এর কারণ কী?

গবেষণা অনুসারে, এসব রেড স্প্রাইট তৈরি হয়েছে মেঘ থেকে মাটিতে শক্তিশালী বজ্রপাতের ফলে। এসব বজ্রপাত হয়েছিল গাঙ্গেয় সমভূমি থেকে তিব্বতীয় মালভূমির দক্ষিণ পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এক ঝড়ের কারণে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে বজ্রপাত তৈরি করতে পারে হিমালয়।

ঘটনাটি সঠিকভাবে বিশ্লেষণের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ঠিক কোন সময়ে এমনটি ঘটেছে সে তথ্য জানার প্রয়োজন ছিল গবেষকদের। তবে মূল রেকর্ডিংয়ে সঠিক সময়ের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্যাটেলাইট ট্র্যাজেক্টরি ও তারার ফিল্ড বিশ্লেষণ ব্যবহার করে এক নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন গবেষকরা। এ কৌশলটি তাদের প্রতিটি স্প্রাইট ঠিক কখন হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে ও এর মূল বজ্রপাতের সঙ্গে সংযোগ করতে সাহায্য করেছে।

গবেষণার একজন পর্যালোচক এই পদ্ধতির প্রশংসা করে বলেছেন, নাগরিক বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর হতে পারে এই কৌশল।

এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ

যে ঝড়ের কারণে এসব স্প্রাইটের তৈরি হয়েছিল তা দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড করা সবচেয়ে সক্রিয় ঝড়গুলোর মধ্যে একটি, যেখানে একটি বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল স্প্রাইট।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ অঞ্চলের বিভিন্ন ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রেট প্লেইনস’ ও ইউরোপের শক্তিশালী ঝড়ের মতো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক উপরে বজ্রপাত তৈরি করতে পারে।

আরও রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে, এর থেকে ইঙ্গিত মেলে এসব ঝড় অপ্রত্যাশিত উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভৌত ও রাসায়নিক প্রভাব থাকতে পারে রেড স্প্রাইট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক স্রাবের, যা কেবলমাত্র বুঝতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা বলছেন, বজ্রপাত ও পৃথিবীর উপরের স্তরের বায়ুমণ্ডলের রহস্য গবেষণার জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এ আবিষ্কার। পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানও তাদের মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি দিয়ে আমাদের অবাক করে দিতে পারে।