রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
'২০২৯ সালের ভোটেই মোদী সরকারের বিদায় নিশ্চিত', ভবিষ্যদ্বাণী ককরোচ প্রধানের জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্তক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার বাংলাদেশের কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে মানুষের লাশ উদ্ধার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিবিএসকে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী সৌদি আরবের রিয়াদে আর্থিক জেলায় হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায় সিলেট
প্রচলিত ভুল

একটি ভিত্তিহীন কিসসা উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রা.-এর কবরের সওয়ালের জবাব আল্লাহ নিজে দিয়ে দেবেন

ড. মো: সাইফুল ইসলাম • 23 সেপ্টেম্বর 2026, 08:57 সকাল • 64 বার পঠিত
একটি ভিত্তিহীন কিসসা উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রা.-এর কবরের সওয়ালের জবাব আল্লাহ নিজে দিয়ে দেবেন

কোনো কোনো অসতর্ক বক্তাকে বলতে শোনা যায়, যখন খাদিজা রা. ইন্তেকাল করলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাফন শেষ করে খাদিজা রা.-এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবু বকর রা. নবীজীকে আসতে বললে নবীজী বললেন, খাদিজা কবরের তিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। সে যদি উত্তর দিতে না পারে তাহলে আমি তার পক্ষ থেকে উত্তর দিয়ে দিব।

একথা শুনে আল্লাহ জিবরীল আমীনকে পাঠিয়ে দেন। জিবরীল আমীন বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেন, খাদিজা যদি কবরের সওয়ালের জবাব দিতে না পারে স্বয়ং আমি আল্লাহ তার কবরের সওয়ালের জবাব দিয়ে দিব।

কেউ আবার কিসসাটি এভাবেও বলে-

খাদিজা রা. ইন্তেকালের পূর্বে নবীজীকে বলে যান, আমাকে কবরে নামিয়ে দিয়ে আমার সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি কবরের পাশেই থাকবেন। আমাকে একা ফেলে যাবেন না।...

দাফন শেষ করে নবীজী অশ্রুসজল চোখে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। হাবীবের এমন বিমর্ষ মানসিক অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ ফেরেশতা জিবরাইল আ.-কে পাঠালেন।

জিবরাইল আ. এসে সালাম দিয়ে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এভাবে আপনার স্ত্রীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে জিবরাইল, আমি প্রিয়তমা স্ত্রীকে কথা দিয়েছি, তাঁর সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।

জিবরাইল আ. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, খাদিজা রা.-কে করা মুনকার-নাকীরের সওয়ালের জবাব আল্লাহ আরশে আজীম থেকে নিজেই দিয়ে দেবেন!

এটি একটি বানোয়াট কিসসা; নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে তা পাওয়া যায় না।

খাদিজা রা.-এর ফযীলত বর্ণনা করার জন্য এজাতীয় বানোয়াট কিসসার কোনো প্রয়োজন নেই। সহীহ হাদীসেই খাদিজা রা.-এর ফযীলত সংক্রান্ত অনেক বর্ণনা রয়েছে। খাদিজা রা.-কে আল্লাহ জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরাইরা রা. বলেন, একদিন জিবরীল আ. নবীজীর কাছে এলেন এবং বললেন-

يَا رَسُولَ اللهِ! هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ، مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ، أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السّلاَمَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي، وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الجَنّةِ مِنْ قَصَبٍ، لاَ صَخَبَ فِيهِ، وَلاَ نَصَبَ.

আল্লাহর রাসূল! ওই যে খাদিজা একটি পাত্রে তরকারি অথবা খাবার বা পানি নিয়ে আপনার কাছে আসছে। যখন সে আসবে আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতে একটি মুক্তা-প্রাসাদের সুসংবাদ দেবেন; যেখানে না আছে কোনো শোরগোল, না আছে কষ্ট-ক্লান্তি। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৮২০

#মাসিক আলকাউসার #প্রচলিত ভুল